প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দুর্নীতির সঙ্গে আমরা কোনো আপস করতে চাই না। দলমত-নির্বিশেষে সবাইকে নিয়মের মধ্যে আনাই সরকারের লক্ষ্য। আমরা সুশাসন রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি করতে চাচ্ছি।’ রোববার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, “সুশাসন বর্তমান সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি আমরা করতে চাইছি। সুশাসনের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ব্যবস্থাপনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং অবশ্যই জবাবদিহিতা।

দেশের ৬৪ জেলার ডিসি এবং বিভাগীয় কমিশনারদের সামনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনি ইশতেহার এবং জনগণের সামনে স্বাক্ষরিত যে জুলাই সনদ, এটার প্রতিটি দফা প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমে আমরা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা এ ব্যাপারে বদ্ধপরিকর।

“আমি আশা করব, আপনারা আপনাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে জনগণের কাছে দেওয়া সরকারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়নে ইনশাআল্লাহ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।”

মাঠ প্রশাসনের এই শীর্ষ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বোচ্চ প্রশাসনিক স্তরে অবস্থান করছেন। একটি শক্তিশালী জবাবদিহিমূলক আইনসম্মত এবং জনবান্ধব রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আপনারাই হচ্ছেন সরকারের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।”

নির্দেশনামূলক বক্তব্যে সরকারপ্রধান বলেন, “প্রয়োজনের অতিরিক্ত আইন কানুন ও জটিতলতাকে অজুহাত হিসেবে আমরা ব্যবহার না করি বরং বাস্তবসম্মত কার্যকর ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের মানসিকতা আমরা প্রশাসনের সকল পর্যায়ে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। যাতে করে জনগণ সময়মত সরকারের প্রতিটি কর্মসূচির প্রত্যাশিত যে সুফল লাভ করতে পারে।”

সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) নিয়ে ঢাকায় চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ শুরু হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক সম্মেলনস্থলে এসে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী। সম্মেলনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত রয়েছেন।

এর আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের নিজ দপ্তর থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে আসেন। এসময় রাস্তার দু-পাশে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে আসা জেলা প্রশাসকরা উপস্থিত রয়েছেন।

৫৬টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা সম্মেলনে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের ওপর জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবেন। সরকারের নীতি উন্নয়ন কর্মসূচি এবং মাঠ প্রশাসনের জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব বিষয়ে আলোচনা, নির্দেশনা গ্রহণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য ঐতিহ্যগতভাবে প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলন আয়োজন করা হয়ে থাকে।

এবারের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে মোট অধিবেশন হবে ৩৪টি। তার মধ্যে কার্য অধিবেশন হবে ৩০টি এবং অংশগ্রহণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সংখ্যা হচ্ছে ৫৬টি। মাঠ প্রশাসন থেকে এবার ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব পাওয়া গেছে। তার মধ্যে কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ৪৯৮টি। সবচেয়ে বেশি প্রস্তাব এসেছে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ সম্পর্কিত। এই বিভাগের জন্য ৪৪টি প্রস্তাব এসেছে।